রাত সাড়ে এগারোটার শেষ ট্রামটায় সেদিন যাত্রী ছিল মাত্র তিনজন। জানালার ধারে বসে থাকা বৃদ্ধ ভদ্রলোক, কোণের …
রাত সাড়ে এগারোটার শেষ ট্রামটায় সেদিন যাত্রী ছিল মাত্র তিনজন। জানালার ধারে বসে থাকা বৃদ্ধ ভদ্রলোক, কোণের সিটে ঝিমোতে থাকা এক কলেজছাত্রী, আর আমি।
ট্রাম চলছিল ধীরে, যেন শহরটাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতে চায় না। রাস্তার আলো একটার পর একটা এসে আমাদের মুখের ওপর ছুঁয়ে যাচ্ছিল—হলুদ, তারপর অন্ধকার, তারপর আবার হলুদ।
হঠাৎ বৃদ্ধ ভদ্রলোক আমার দিকে ঘুরে বললেন, “জানো, চল্লিশ বছর আগে এই একই ট্রামে আমি একজনকে বলেছিলাম, কাল আবার দেখা হবে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “দেখা হয়েছিল?”
তিনি হাসলেন। সেই হাসিতে এত পুরনো একটা অপেক্ষা ছিল যে আমার আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস হলো না।
ট্রাম থামল শেষ স্টপে। তিনি নামলেন সবার আগে, তারপর দাঁড়ালেন প্ল্যাটফর্মের ধারে—যেন কেউ আসবে। আমি অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। কেউ এল না। তবু তাঁর মুখে কোনো হতাশা ছিল না; শুধু একটা শান্ত বিশ্বাস, যা সময়ের চেয়েও দীর্ঘজীবী।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবলাম—কিছু মানুষ অপেক্ষা করে না, অপেক্ষাই তাদের বাঁচিয়ে রাখে।